Home / Blog / ভারতীয় সংস্কৃতির মনস্তাত্ত্বিক জালে বাংলাদেশ

ভারতীয় সংস্কৃতির মনস্তাত্ত্বিক জালে বাংলাদেশ

ভারতীয় সংস্কৃতির মনস্তাত্ত্বিক জালে বাংলাদেশ
=================================
এক বন্ধুর সংগে আজ ফোনে আলাপ হচ্ছিল। তিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা বললেন। আমার কাছে মনে হয়েছে যৌক্তিক।
.
প্রতিবার আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় আসলে ভারত একটা কাজ খুব অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করে থাকে। বাকী দলগুলোও কম যায় না। সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নের নামে বাঙলাদেশে তারা একচেটিয়াভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে থাকে।
.
আগ্রাসন বললাম এই কারণে যে, বিনিময়টা যখন এক তরফা এবং কোন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে করা হয়, তখন সেটাকে আগ্রাসন না বলার কোন কারণ থাকে না।
.
জঙ্গীরাও মানুষ হত্যার আগে ‘জিহাদ’ বলে, ‘হত্যা’ বলে না। আমেরিকাও আফগানিস্তান, ইরাকে নারী শিশু হত্যা করে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ বলে ‘হত্যা’ বলে না। ভারতও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন না বলে সাংস্কৃতিক ভাব বিনিময় বলে। এটা এক ধরনের ক্যামোফ্লেজ।

মূল প্রসংগে আসি।
যে কাজটা পাকিস্তানীরা করতে চেয়েছিল বাঙলা ভাষাকে প্রত্যাখান করে। যে কাজটি আমরা এখনো অনবরত করছি ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। যে কোন জাতীয় ইস্যুতে ‘বাঙলাদেশী’ না বলে ‘বাঙালীর জাগরন’ কিংবা এ রকম অন্য কিছু বলে। এই প্রক্রিয়ায় আমরা বাঙালী বাদে দেশের বাকী ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বাগুলোর অস্তিত্বকে অবহেলা করছি বা স্বীকৃতি দিচ্ছি না।

ভারতও সেই কাজটি করছে আমাদের পরিবর্তন করে সাংস্কৃতিকভাবে ভারতীয় করে তোলার মাধ্যমে। দেশে যে হারে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলোকে অবাধে বাণিজ্যের সুযোগ দেয়া হয়েছে তাতে দেশের মানুষ ধীরে ধীরে ওদের সংস্কৃতিকে গ্রহণ করছে।

কিন্তু আমাদেরটা?

আমাদের চ্যানেলগুলো ভারতে প্রদর্শনে রয়েছে ওদের চরম অনীহা। এ রকম চলতে থাকলে অচিরেই ভারতের প্রতি আমাদের মনস্তাত্বিক নির্ভরশীলতা তৈরী হবে। যেমনটি পাকিস্তানীরা চেয়েছিল আমাদের কাছে, আমরা যারা ন্যাশনালিটি (এথনিক পরিচয় অর্থে নয়) বলতে বাঙালী সংস্কৃতি বুঝি তারা করছি ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার সাথে।

সংস্কৃতি নিছক কোন মানুষের আচার ব্যবহার নয়, এটা তার অস্তিত্ব, তার পরিচয়। ভারত ধীরে ধীরে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে বুদ্ধিমত্তার সংগে আমাদের শেঁকড় ধরে টান মারছে। এটা রুখতে না পারলে সীমান্তে ফেলানী হত্যার চেয়েও ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন কোন কোন ক্ষেত্রে সামরিক আগ্রাসনের চেয়েও ভয়াবহ।

সংস্কৃতি মানে শুধুই চলন বলন নয়। সেই সাথে জড়িত আছে কমোডিটি। কমোডিটির সাথে যুক্ত বাণিজ্য। মনে আছে, এক সময় লেহাঙ্গার কি বাজার ছিল বাঙলাদেশে? এখন হয়তো নতুন আরো অনেক কিছু যুক্ত হয়েছে। এতো গেল বাণিজ্যের মোটের উপর একটা উদাহরন। খুজেঁ দেখলে গন্ডায় গন্ডায় পেয়ে যাবেন।

যেখানে ভারতের নানা ষ্টেটের মানুষ হিন্দী বলাতে অনিচ্ছুক জাতি সত্ত্বার পরিচয়কে অক্ষুন্ন রাখার জন্য। সেখানে আমাদের তরুণ প্রজন্মের অনেকের কাছে হিন্দী বলাটা কেমন জানি গর্বের বিষয়। এভাবে ধীরে ধীরে আমরা হারিয়ে যাচ্ছি বিশাল এক দৈত্যের পেটে।
এখন হজম হবার পালা।

কথাটার তাৎপর্য বুঝতে যাদের সমস্যা হচ্ছে, তারা সুযোগ পেলে নেপাল ঘুরে আসবেন।

সৌজন্য : Mahbub Mithu